বিবিধ অসুখের ধন্বন্তরী হল- চোদ্দো শাকের তেজ
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্কঃ চোদ্দো শাক খাওয়ার রীতি-রেওয়াজ বহু প্রাচীনকালের। অনেকে আবার সেই প্রাচীন নিয়ম মেনে এই পর্ব পালন করে থাকেন। ভক্তি বা বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে চতুর্দশীতে চোদ্দো শাক খাওয়ার প্রথা পালন করেন। বরাবরের মতো এবারও কার্তিকী চতুর্দশীর বাজারে চোদ্দো শাকের উপস্থিতি। সর্ষে, ওল, কেঁউ, বেতো, পটলপত্র, নিম, কালকাসন্দি, শালঞ্চী, জয়ন্তী, হিঞ্চে, শুলফা, গুড়িচি, শুষনি, ভন্টাকী প্রভৃতি একগুচ্ছ শাক নিয়েই এই ‘চোদ্দো শাক’। অন্যদিকে অনেকেই বলে থাকেন এ শাক হল ঔষধি। আজও শুদ্ধাচারে রান্নাঘরে এই শাক রান্না করা হয়ে থাকে। উল্লেখ করা যায়, অতীতে গৃহদেবতা জগন্নাথদেবের ভোগ রান্নার সময়ে কাঠের আঁচের আগুনে এই শাক রান্না করা হত। এখনও সেই রীতি বা প্রথা পালন হয়ে থাকে। পাশাপাশি উল্টোরথে জগন্নাথদেবের শয়ন আরতির পূর্বে ছাপান্ন ভোগেও চোদ্দো শাক রাখা হয়ে থাকে। তবে কালীপুজোর আগে ভূত-চতুর্দশী আসে। এই সময় চোদ্দো শাক পাওয়া যায় বাজারগুলিতে ।
এক্ষেত্রে এ বিষয়ে আরও জানা যায়, আয়রন, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি-র উপস্থিতি থাকে শাকে। সুগার, পেশার, হাঁপানি, পেট ব্যথা সহ নানা রোগের ক্ষেত্রে এই শাকের বিশেষ গুরুত্বও রয়েছে। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলেন, চোদ্দো রকম অসুখের ধন্বন্তরী হল চোদ্দো শাকের তেজ। এক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, শাস্ত্রসম্মত রন্ধনের পদ্ধতিও রয়েছে। এইসব শাক যত্ন করে বাছাই করার পর তেল, হলুদ, পাঁচফোড়ন, বড়ি, বেগুন, কাঁচা লঙ্কা দিয়ে রান্না করার রীতি রয়েছে। বাঙালী তথা বঙ্গে বহু গৃহস্থ বাড়িতে চতুর্দশীতে চোদ্দো শাক রান্না করা হয়।
চিকিৎসকরা বলে থাকেন নানা ভেষজ উপাদান থাকে চোদ্দো শাকে। আয়ুবেদেও চোদ্দো শাকের গুনের কথা বলা হয়েছে।

